গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতা অব্যাহত: শিশু হত্যা, জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল
ভূমিকা: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী আবারও চালিয়েছে নির্মম হামলা। ২০ জুন ২০২৫, শুক্রবার স্থানীয় সময়ে গাজায় আরও ৮২ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন। এর মধ্যে শিশু, নারী এবং ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষ রয়েছেন। এমনকি ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেও ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করেনি।
বর্তমান পরিস্থিতি (২০২৫ সালের ২০ জুন): গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:
মধ্য গাজায় নিহত: ৩৭ জন (২৩ জন নিহত হন ত্রাণ আনতে গিয়ে)
গাজা সিটিতে নিহত: ২৩ জন
দক্ষিণ গাজায় নিহত: ২২ জন (১১ জন ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারান)
ইসরায়েলি বাহিনীর এই টার্গেট করা হামলাগুলো গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীরতর করেছে।
জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল: জাতিসংঘ প্রকাশিত ২০২৫ সালের ‘সশস্ত্র সংঘাতে শিশু’ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে ২৫%।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটেছে গাজা ও পশ্চিম তীরে।
শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ও ইসরায়েলে:
২,৯৫৯ শিশুর বিরুদ্ধে ৮,৫৫৪টি গুরুতর সহিংসতার ঘটনা নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।
এর মধ্যে:
১,২৫৯ শিশু নিহত
৯৪১ শিশু আহত
আরও ৪,৪৭০ শিশুর মৃত্যু তদন্তাধীন
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: গাজা ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলের অবরোধে রয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আগ্রাসন ছিল সর্বাধিক প্রাণঘাতী। অতীতে এই অঞ্চলে হামলার সময়ও শিশুদের উপর বিশেষভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছে। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধেও বহু শিশু নিহত হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের সহিংসতা এই সব অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব:
ইসরায়েলের এই একতরফা হামলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
শিশু, ত্রাণকর্মী এবং হাসপাতাল টার্গেট করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তেমন দৃঢ় প্রতিবাদ না আসায় ইসরায়েল নির্ভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ:
গাজায় মানবিক সংকট আরও চরমে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক চাপ না বাড়লে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকবে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যস্ত হবে।
উপসংহার: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কালো তালিকা ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এর বাস্তবিক প্রতিক্রিয়া প্রায় শূন্য। গাজার সাধারণ জনগণ, বিশেষত শিশুদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে অনুভূত হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এখনই একসাথে রুখে দাঁড়ানো।
প্রস্তাবিত FAQ (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন):
১. ২০২৫ সালের গাজা হামলায় কতজন নিহত হয়েছেন?
শুধু ২০ জুনেই ৮২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই শিশু ও ত্রাণ সংগ্রহকারী।
২. জাতিসংঘ কেন ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে?
শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর সহিংসতার জন্য দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
৩. ইসরায়েল কোন ধরনের শিশু সহিংসতা করেছে?
হত্যা, আহত করা, হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা, এবং মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে গোলাবর্ষণ।
৪. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন?
কিছু মানবাধিকার সংস্থা প্রতিবাদ জানালেও, বড় শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর চাপ দেখা যায়নি।
৫. গাজার বর্তমান পরিস্থিতি কেমন?
মানবিক বিপর্যয় চরমে; খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তার ঘাটতি প্রকট।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |